চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম ফজলুল্লাহর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার স্যুয়ারেজ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম ওয়াসার কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরানের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল এই অভিযান পরিচালনা করে। তারা ওয়াসার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ফাটল দেখতে পান।
দুদক জানায়, প্রকল্পটির ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, এবং ফাটল ধরা পড়েছে। প্রকল্প পরিচালকও এ বিষয়ে অবগত এবং রাসায়নিক পরীক্ষা শেষে ফাটল সিল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে যে, সাবেক এমডি ফজলুল্লাহ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের আত্মীয়দের প্রকল্পে যুক্ত করেছেন এবং নিয়ম ভেঙে জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়েছেন। দুদক এ বিষয়ে বলেন, “আমরা শেষ ছয় মাসের নিয়োগ ও বদলির রেকর্ডপত্র চেয়েছি। বিশ্লেষণ শেষে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।”
২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সাবেক এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর কয়েকদিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চায়। ঠিক সেই সময়ই ওয়াসা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতির প্রমাণ নষ্ট করতেই এই অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল।
এ কে এম ফজলুল্লাহ ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১১ সালে এমডি হন। তিনি টানা ১৫ বছর এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার সময়ে অন্তত ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে আটটি সম্পন্ন হয়েছে এবং দুটি এখনো চলমান। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও নগরবাসী এখনও পানি সংকট ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যার সমাধান পায়নি।
দুদক জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply