যশোর সংবাদদাতা :
যশোর জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সাফ বার্তা দিয়েছেন যে, দল তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে—সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যিনি গ্রহণযোগ্য নন, তাকে বিএনপিতে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
শনিবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যারা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সকাল ১১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানুল্লাহ আমান।
সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তারেক রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসন ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল, কিন্তু জনগণের শক্তির কাছে তারা টিকতে পারেনি। বিএনপি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও স্বৈরাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি দেশের কৃষক সমাজ ও নারী উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য আড়াই বছর আগে ৩১ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এ কারণে দলটি রাষ্ট্রপুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার। এই বেকারত্বের সমাধান করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল কাটা কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে। যেসব খালে পানির প্রবাহ নেই, সেগুলোর পুনঃসংস্কার করা হবে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি আরোও জানান, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের ভেতরেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। রাজনীতিতে অবশ্যই গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে এবং একমাত্র বিএনপিই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমেই দল গঠনমূলক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
সম্মেলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নিহত নেতা-কর্মীদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী। নিহতদের পরিবারের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১,৬১০ জন কাউন্সিলর যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন।
Leave a Reply