কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নির্মমভাবে খুন হওয়া স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা রেলীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, ইউপি সদস্য, চা শ্রমিক ও অভিভাবকরা। মানববন্ধনে উপস্থিত সকলে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় শমশেরনগর চাতলাপুর সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শমশেরনগর চা বাগানের প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে নিহতের মা লাকসামা রেলী, বাবা আপ্পারাও রেলী, শমশেরনগর চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল দাস পাইনকা, সমাজসেবক এম এ আহাদ, সহকারী শিক্ষিকা মনি গোয়ালা, চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সিতারাম বীন, ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) ইয়াকুব মিয়া, সমাজসেবক ইসতিয়াক আহমেদ বাবেল, সাংবাদিক সালাহউদ্দিন শুভ, নুরুল মোহাইমিন মিল্টন ও এম এ ওয়াহিদ রুলু বক্তব্য দেন।
পূর্ণিমার মা-বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট সোনা মনিকে ওরা বাঁচতে দিল না। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আমাদের মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের চা শ্রমিক কন্যা পূর্ণিমা রেলী (১০) ধর্ষণচেষ্টার শিকার হলে সে চিৎকার শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুই যুবক নির্মমভাবে তার গলা ও হাতের কজি কেটে তাকে হত্যা করে। ঘটনার ১৭ দিন পর, ২২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঘটনার মূল আসামি নারায়ণ টিলার লাছানা রেংগেটের ছেলে দিবস রেংগেট (১৯) ও ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে একই এলাকার সুনিল বাউরির ছেলে উজ্জ্বল বাউরিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন জানান, “পূর্ণিমা রেলীর হত্যাকারীদের আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এলাকার মানুষ এখনো উত্তাল রয়েছে। প্রশাসনের প্রতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
Leave a Reply