বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে টমেটোর ব্যাপক উৎপাদন হলেও দরপতনের কারণে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ক্ষেত থেকে তোলা ও বাজারজাতকরণের খরচও উঠছে না, ফলে অনেক কৃষক গাছেই পাকা টমেটো নষ্ট করে দিচ্ছেন। রবিবার (৩ মার্চ) সকালে দেখা গেছে, বাজারে ১ টাকা কেজি দরেও টমেটো বিক্রি হচ্ছে না, যা চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
টমেটো চাষিরা জানান, বাজারে দরপতন চলতে থাকলে তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে। চিতলমারী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ২ হাজার ৭২ একর জমিতে হাইটম, বিউটিফুল-২, বিপুল প্লাস, মেজর, বাহুবলী ও বিউটি জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে। প্রথম দিকে প্রতিমণ টমেটো ৩,৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম একেবারে তলানিতে নেমে গেছে। শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ না ওঠায় কৃষকরা ক্ষেত থেকেই টমেটো তোলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।
দড়িউমাজুড়ি (গিরিঙ্গির) মোড়ে টমেটো বিক্রি করতে আসা চাষি অমল রায় বলেন, “এ অঞ্চলের টমেটো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। কিন্তু এবার টমেটোর দরপতনে আমরা চরম সংকটে আছি। আমি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন এই ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না। আগামীতে চাষ করাও কঠিন হয়ে যাবে।”
পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান বলেন, “আমরা প্রতি কেজি টমেটো ২-৩ টাকা দরে কিনেছি। চিতলমারীর টমেটোর যে সব অঞ্চলে চাহিদা ছিল, সেখানে এখন চাহিদা কম। উৎপাদনও অনেক বেশি, ফলে দরপতন হয়েছে। তাছাড়া বাজারে পাইকারি ক্রেতাও কমে গেছে।”
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সিফাত-আল-মারুফ বলেন, “চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ থাকলে টমেটো সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো। যেহেতু সে ব্যবস্থা নেই, তাই চাটনি ও জুস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পেত এবং লাভবান হতো।”
টমেটো চাষিদের এই সংকট কাটাতে সরকারি উদ্যোগ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply