দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে স্বাবলম্বী ও সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন মো. সোহরাব আলী। দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী কাটাপাড়ায় দুই বিঘা জমিজুড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি মনোরম সূর্যমুখী ফুলের বাগান। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন হলুদ গালিচায় মোড়ানো বিস্তীর্ণ এলাকা।
এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় জমায় অসংখ্য দর্শনার্থী। দর্শনার্থীদের আগমন তার জন্য আর্থিক লাভেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কম খরচে অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় তিনি নিজেকে স্বাবলম্বী ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সূর্যমুখী চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতা এবং দর্শনার্থীদের উৎসাহ তাকে আরও অনুপ্রাণিত করছে।
চিকিৎসকদের মতে, সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে উৎপাদিত তেল অন্যান্য ভোজ্য তেলের তুলনায় ১০ গুণ বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন, কোলেস্টেরলমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, ফলে সূর্যমুখী চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোহরাব আলী জানান, ২০২০ সালে তিনি প্রথমে ১০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেন। সফলতা পেয়ে পরের বছর ২০ শতকে চাষ করেন এবং ভালো মুনাফা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি দুই বিঘা জমিতে বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী ফুল চাষ করছেন। তিনি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বীজ সরবরাহ করেন এবং জানান, সূর্যমুখী ফুলের গাছ জ্বালানিতেও ব্যবহার করা যায়। তবে সরকারি সহায়তা পেলে তিনি আরও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবেন, যা একদিকে ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বীজ রোপণের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৫-৬ হাজার টাকা, আর উৎপাদিত বীজ বিক্রি হয় ১১-১৫ হাজার টাকায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, দিনাজপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিসজ্জামান বলেন, সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় শস্য। কৃষকরা আমনের পরে সূর্যমুখী আবাদ করে পরবর্তী শস্যের চাষ করতে পারেন, যা তাদের জন্য লাভজনক হবে। যদিও বাজারজাতকরণে কিছুটা সমস্যা ছিল, তবে বর্তমানে বেশ কিছু উদ্যোক্তা বীজ ক্রয় করছে, ফলে কৃষকদের তেমন অসুবিধা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, যদি কৃষকদের সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল উৎপাদনের মেশিন সরবরাহ করা যায়, তাহলে তারা আরও উৎসাহিত হবে। কারণ, সরিষার তেলের মতো সূর্যমুখী তেলও স্বাস্থ্যসম্মত এবং বাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন।
Leave a Reply