রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন

বাগেরহাটে দড়াটানা নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫, ১০.০৮ অপরাহ্ণ
  • ১৪৯ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাগেরহাট সদর উপজেলার অর্জুনবাহার এলাকার দড়াটানা নদীর পাড় থেকে আজমির শেখ (৪৭) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয়রা নদীর পাড়ে লাশ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। নিহত আজমির শেখ সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের হাসেম শেখের ছেলে।

নিহতের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন এবং কান থেকে রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে নদীতে ফেলে হত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার আজমির শেখ বড় বাঁশবাড়িয়া এলাকার আশিক নামের এক ব্যক্তির মাছের ঘেরের বাসায় বসে তাস খেলছিলেন। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় কিছু লোকজন সেখানে উপস্থিত হলে তাস খেলতে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে মধু শরীফ নামে একজনকে আটক করা হয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মূলত মধু শরীফের ভাই খোরশেদ শরীফকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে আসে সন্ত্রাসীরা। কিন্তু ভুলক্রমে আজমির শেখকে তারা হামলা করে হত্যা করে এবং নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহতের ছেলে ওমর ফারুক বলেন, “আমার বাবা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তার কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। আমরা দুই ভাই ঢাকায় চাকরি করি, মা প্রবাসে থাকেন। বাবা শুধুমাত্র তাস খেলতে গিয়েছিলেন, কিন্তু কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা বুঝতে পারছি না। আমরা বাবার হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”

এদিকে, খোরশেদ শরীফের স্ত্রী হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, “মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আমাদের বাড়িতে এসে আমার দেবর, প্রতিবন্ধী মধু শরীফকে আটক করে। এ সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালায় এবং হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোর স্বামীকে মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছি’।”

মধু ও খোরশেদ শরীফের মা হালিমা বেগম বলেন, “আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করেছে। সন্ত্রাসীরা আসলে আমার ছেলে খোরশেদকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভুলবশত আজমির শেখকে মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি আমার ছেলেদের নিরাপত্তা চাই এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উল হাসান বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com