টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী (১০) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ভয়ে মুখ না খুললেও ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বররা গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। সেখানে অভিযুক্ত সিএনজিচালক ফিরোজ মিয়াকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যার মধ্যে ৯২ হাজার টাকা মাতব্বরদের কাছে জমা দেওয়া হয়। বাকি ৫৮ হাজার টাকা এখনও পরিশোধ হয়নি।
জানা গেছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়া আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের এক জমিতে সার দিচ্ছিল। পাশেই বড়ই গাছ থেকে বড়ই পাড়ছিল শিশুটি। ফিরোজ মিয়া শিশুটিকে ডেকে নিয়ে টয়লেটের ভেতরে ধর্ষণ করে। পরে মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
শিশুটির মা জানান, ফিরোজের ডাকার শব্দ তিনি শুনেছিলেন। পরে মেয়েটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর পাড়া-প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারে।
স্থানীয় মাতব্বর মালেক, বাবুল ও ফাজু সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে শিশুটির মা জানান, সালিশ মেনে নিলেও জরিমানার টাকা গ্রহণ করেননি।
এদিকে, পুলিশ খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালালেও ফিরোজ কয়েকদিন আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে পুলিশ শিশুটিকে ও তার মাকে থানায় নিয়ে আসে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে। শিশুটির মা পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
Leave a Reply