গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সংগঠক মশিয়ার রহমান খানকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বুধবার বাদ মাগরিব তাঁর মরদেহ কাচারি বাজারস্থ গাইবান্ধা প্রেসক্লাব চত্বরে আনা হলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান, গোবিন্দলাল দাস, ওয়াজিউর রহমান রাফেল, সাইফুল ইসলাম দুলু, অধ্যাপক মমতাজুর রহমান বাবু, কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন, সহ-সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু, মো. খালেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা, যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ হোসেন প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা জোবায়ের আলী।
এসময় কমিউনিস্ট পার্টি, গাইবান্ধা প্রেসক্লাব, গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চ, উদীচী, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, সাতভাই চম্পা, মহিলা পরিষদ, সিপিবি নারী শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
বাদ এশা গোরস্থান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে, ভোরে ঢাকার রামপুরায় ছেলে ডা. ইশতিয়াক খান নির্ঝরের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খান (ইন্নালিল্লাহি…..রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
১৯৫০ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মশিয়ার রহমান খান। পিতা হেমায়েত হোসেন খান ও মাতা মজিদা খানমের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। ব্যক্তিগত জীবনে একমাত্র ছেলে ইশতিয়াক খান নির্ঝর একজন চিকিৎসক। তাঁর স্ত্রী তানজিনা আকতার রাকা আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
ষাটের দশক থেকেই সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী ছিলেন মশিয়ার রহমান খান। ছড়া লেখায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। ২০২৫ সালের একুশে বইমেলায় তাঁর লেখা ছড়ার বই ‘আমরা ছিলাম খোঁয়াড়ে’ প্রকাশিত হয় এবং এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়াও ‘ছন্দের আলপনা’ ছড়া সংকলনের অন্যতম লেখক ছিলেন তিনি। শিশু সংগঠন সাত ভাই চম্পা ও গাইবান্ধা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।
১৯৭২ সালে বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (বিপিআই)-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন মশিয়ার রহমান খান। পরে ১৯৭৪ সালের শেষ দিকে দৈনিক বাংলার বাণী-তে যোগ দেন এবং ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জনপ্রিয় সাপ্তাহিক গাইবান্ধা ও দৈনিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি অবিভক্ত গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক মহল, সাহিত্য অঙ্গন ও গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a Reply