স্টাফ রিপোর্টার:
আজ ৬ এপ্রিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। বিশ্বজুড়ে ‘উন্নয়ন ও শান্তির জন্য ক্রীড়া’ দিবস হিসেবে স্বীকৃত এই দিনটি বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দিবসটি ঘিরে গ্রহণ করা হয়েছে নানা কর্মসূচি, যার মূল প্রতিপাদ্য— “তারুণ্যের অংশগ্রহণ, খেলাধুলার মানোন্নয়ন”।
রবিবার সকালে রাজধানীতে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি সচিবালয়ের প্রধান ফটক, জিরোপয়েন্ট ঘুরে জাতীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীরা।
র্যালি শেষে জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় সুবিধাবঞ্চিত অনূর্ধ্ব-১৭ শিশুদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই অঞ্চলে ভাগ করে আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় স্টেডিয়ামে, আর বাকি ম্যাচগুলো মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ১১টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে প্রতিপাদ্য বিষয়ভিত্তিক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
কেবল রাজধানী নয়, দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে সারাদেশে। প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রীতি খেলা।
ক্রীড়া দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজকরা জানান, খেলাধুলা শিশু ও তরুণদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে তৈরি হয় নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম।
তরুণদের অংশগ্রহণে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এরইমধ্যে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’-এর মাধ্যমে সৃজনশীল ও উদ্যোগী প্রজন্ম গঠনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
এছাড়া, দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নেও চলছে ব্যাপক কাজ। এখন পর্যন্ত দেশের ১২৫টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, আর ২০১টি উপজেলায় নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি ৪টি বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৬৪টি জেলায় ৬৮টি জেলা স্টেডিয়াম, ১৮টি সুইমিংপুল, ১০টি কিট ইনডোর স্টেডিয়াম এবং ৭টি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ চলছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ ২০১৩ সালে ৬ এপ্রিলকে ‘উন্নয়ন ও শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৮৯৬ সালের এই দিনে গ্রীসের অ্যাথেন্সে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আধুনিক অলিম্পিক গেমসের প্রথম আসর। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণে রেখে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হচ্ছে।
Leave a Reply