মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

ঝিকরগাছায় বসতবাড়িতে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে প্রভাবশালীর প্রাচীর নির্মাণ

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, ১০.১৩ পূর্বাহ্ণ
  • ১৮৮ বার

যশোর সংবাদদাতা :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বামনালী গ্রামে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে বসবাসকারী একটি পরিবারকে আট মাস ধরে গৃহবন্দি করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে সেখানে প্রাচীর তুলে চলাচলে চরম বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মীর আক্কাস আলী জানান, বামনালী মৌজার মীরপাড়ায় ৯৮২ নং দাগে পিতার নামে রেকর্ডকৃত ১০ শতক ও নিজে ক্রয় করা আরও ১০ শতক জমিতে তার দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বসবাস। বাড়িতে আসা-যাওয়ার জন্য পূর্ব-পশ্চিমমুখী একটি রাস্তা ছিল, যা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্বিঘ্নে চলাচল করে আসছিলেন।

কিন্তু গত আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই চাচাতো ভাই মীর মনিরুজ্জামান মকবুল হোসেন, মীর মোশারফ হোসেন, মীর মারুফ হোসেন, জনি, নাহিদ ও রিন্টুসহ আরও ৮-১০ জন মিলে জোরপূর্বক বাড়ির ঘর-দরজা ভেঙে সেই রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর তুলে দেন। ফলে ওই বাড়ির সদস্যরা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন।

মীর আক্কাস আলীর ভাষ্য, “আমরা এখন বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। জমিটি আমাদের পৈত্রিক এবং ক্রয়কৃত—কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের বাড়িতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এমনকি আমার ছোট ভাই মীর মুছাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে বাড়ির উঠান চষে পানি ঢেলে ভিজিয়ে দেয়া হয়।”

এ ঘটনায় মীর আক্কাস আলী ও মীর মুছা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নালিশী জমির প্রকৃত দখলদার বাদী। তবুও বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায়, মীর মুছা ফের আদালতে আবেদন করেন। এর ভিত্তিতে এবার থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

ঝিকরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবু সাঈদ জানান, “আমি সরেজমিনে গিয়েছি, তবে প্রতিবেদন এখনো দাখিল করা হয়নি। প্রাচীর তুলে বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে অমানবিক। তাছাড়া, ওই জমির কিছু অংশ তাদের পৈত্রিক এবং কিছু তারা ক্রয় করেছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালি সরকার বলেন, “জমি যারই হোক না কেন, কোনোভাবেই কারো বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করা অমানবিক ও বেআইনি। আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এখন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়নই একমাত্র ভরসা গৃহবন্দি হয়ে থাকা এই পরিবারের।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com