নওগাঁ সংবাদদাতা :
নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর জোতবাজার খেয়াঘাটে নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নকশা বহির্ভূত কাজের ফলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে ব্রিজের মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ২০২৪ সালে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৮ কোটি ৮১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। এরপর সংযোগ সড়কের জন্য ২৭০ মিটার অংশে ৪ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার বরাদ্দে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় “মোঃ সোহেল এন্ড এমএস খান ট্রেডার্স জেভি” নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা পরবর্তীতে সাব-ঠিকাদার হিসেবে হস্তান্তর করা হয় “মেসার্স বাসের আলী সরদার এন্টারপ্রাইজ”–এর স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান বাবুর কাছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই একাধিক অনিয়ম সামনে আসে। ব্রিজ থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবৈধভাবে মাটি কেটে সড়ক নির্মাণ, বালির পরিবর্তে ভরাট মাটি ব্যবহার, এবং ব্লক, খুঁটি নির্মাণে নিম্নমানের বালি, পাথর ও রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাব-বেসে (মধ্যবর্তী স্তর) যেখানে বালি ও খোয়ার অনুপাতে ভারসাম্য থাকা উচিত ছিল, সেখানে বালির পরিমাণ বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়াটার বাউন্ড ম্যাকাডাম (WBM) কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট। এতে করে দীর্ঘস্থায়ী রাস্তা নির্মাণের পরিবর্তে নিম্নমানের সড়ক তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদার মেহেদী হাসান বাবু সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনারা সাইটে গেছেন, প্রতিবেদন করেন, পারলে আমিও ঠেকাবো।”
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আবু সায়েদ জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সাইটে পাঠানো হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “রোববার রাস্তার সাব-বেস ইন্সপেকশন করা হবে। কাজের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে। ডাবলু বি এম (WBM) করা হয়েছে কিনা, সেটি এখনও নিশ্চিত নই। তবে অনিয়ম পেলে কাজ বাতিল করে দেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনস্বার্থে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা রোধে যথাযথ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Leave a Reply