মৌলভীবাজার সংবাদদাতা :
মৌলভীবাজারের আলোচিত আইনজীবী সুজন মিয়া হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ এক ভুল পরিচয়ের ঘটনা—যেখানে প্রকৃত লক্ষ্য ছিল অন্য একজন, কিন্তু ভুলে হত্যা করা হয় নিরীহ আইনজীবী সুজন মিয়াকে।
গত ৬ এপ্রিল রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভার পশ্চিম পাশে একটি ফুচকা দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় সুজন মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই এনামুল হক সুমনের দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ কোড ৩০২/৩৪ ধারায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার পর পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন (পিপিএম-সেবা)’র নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং একাধিক অভিযান চালিয়ে ৯ এপ্রিল পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মামলার মূল পরিকল্পনাকারী নজির মিয়া ওরফে মুজিব (২৫) , আরিফ মিয়া (২৭), হোসাইন আহমদ ওরফে সোহান (১৯), লক্ষণ নাইডু (২৩), আব্দুর রহিম (১৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল পরিকল্পনাকারী নজির মিয়া তার প্রতিবেশী অগ্রণী ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড মিসবাহর সঙ্গে পুরনো বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে। লক্ষণ নাইডুর মাধ্যমে অপরাধীদের ভাড়া করে নজির মিয়া, এবং মোবাইলে টার্গেটের ছবি পাঠায়।
কিন্তু ঘটনার রাতে মৌলভীবাজার বাণিজ্য মেলায় টার্গেটকে খুঁজতে গিয়ে ভুল করে আইনজীবী সুজন মিয়াকে মিসবাহ মনে করে ভিডিও কলে চিহ্নিত করে। তারপর ভিডিও কলে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ভাড়াটে খুনিরা সুজন মিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নজির মিয়ার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা দিয়ে সে ছবি পাঠিয়েছিল এবং খুনিদের নির্দেশ দিয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে আরও ১০-১২ জন জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা হলেও তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
মৌলভীবাজার সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জেলা পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
Leave a Reply