নিজস্ব প্রতিবেদক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী দুই দিনব্যাপী শুটকি মেলা।
সরকারি ছুটির দিনে, ১৪ এপ্রিল (সোমবার) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নাসিরনগর সদরের লঙ্গন নদীর তীরে মহাখালপাড়া এবং কুলিকুন্ডা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী শুটকি মেলা।
ভোর হতেই নারী-পুরুষের মিলনমেলায় জমে ওঠে শুটকির বিনিময়ে পণ্য ক্রয়ের আয়োজন। শুটকির পরিবর্তে আলু, ডাল, সরিষা, পিয়াজ, রসুন, মরিচ, আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিনিময় করে গ্রামীণ জনগণ। পণ্যের বিনিময়ে পণ্য কেনাবেচার এই প্রথা আজও ধরে রেখেছে প্রাচীন গ্রামীণ অর্থনীতির ঐতিহ্য।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এই মেলায় অংশগ্রহণ করেন। মেলায় উঠেছে বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুড়ি, লাইট্টা, আইর, রুই, কাতল, চিতল, টেংরা, পুঁটি সহ বিভিন্ন জাতের দেশীয় মাছের শুটকি এবং মাছের ডিমের শুটকি। এছাড়াও হাওর, নদী ও সামুদ্রিক বিরল প্রজাতির মাছের শুটকিও পাওয়া গেছে, যা এনেছেন সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম থেকে আগত ব্যবসায়ীরা।
শুধু শুটকিই নয়, মেলায় স্থান পেয়েছে মৎ শিল্পীদের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলস, থালা, ঘটি, বাটি, খেলনা ও পুতুল। শিশুদের জন্য ছিল নাগরদোলাসহ নানা ধরনের আনন্দ আয়োজন, যা মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
মেলার শেষ দিন আজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন নিজে উপস্থিত হয়ে মেলা পরিদর্শন করেন এবং শুটকি ও অন্যান্য পণ্য ক্রয় করেন। তিনি মেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য গ্রামবাসী ও প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মেলার আয়োজক কমিটি ও গ্রামবাসীরা জানান, হাজার বছরের পুরনো এই মেলা কুলিকুন্ডা গ্রামের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। পহেলা বৈশাখে এই মেলার আয়োজন প্রাচীন কালের ধারাবাহিকতা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিফলন।
দুই দিনব্যাপী এই মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়, আর লক্ষাধিক টাকার শুটকি ও অন্যান্য পণ্য কেনাবেচা হয়। সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবারের ঐতিহ্যবাহী শুটকি মেলা।
Leave a Reply