মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

কটিয়াদীতে নকশি কাঁথায় স্বপ্ন বুনছেন রুমা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৫.৪০ অপরাহ্ণ
  • ১৮৩ বার

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বাংলার লোকশিল্পের অন্যতম অনুষঙ্গ নকশি কাঁথা আজ শুধুই ঐতিহ্যের গল্প নয়, তা হয়ে উঠেছে আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার রুমা আক্তার পুতুল সেই প্রমাণ। নিজের একাগ্রতা, শিল্পচেতনা এবং অদম্য মানসিকতা দিয়ে তিনি কেবল নিজেকে স্বাবলম্বী করেননি, পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন একঝাঁক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ।

কটিয়াদী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ঘাগৈর মহল্লার বাসিন্দা রুমা আক্তার পুতুল। বাবার নাম মৃত স্বপন মিয়া। হাতে সুই-সুতো আর হৃদয়ে স্বপ্ন নিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন নকশি কাঁথার যাত্রা। বর্তমানে তার তৈরি কাঁথা কটিয়াদী ছাড়িয়ে পৌঁছে যাচ্ছে জেলার নানা প্রান্তে। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে চলছে বিপণন।

পুরোনো কাপড় দিয়ে তৈরি কাঁথার যুগ পেরিয়ে রুমার কাঁথাগুলো তৈরি হয় একেবারে নতুন কাপড়ে, যা গুণগত মানে যেমন উন্নত, তেমনি দেখতে দৃষ্টিনন্দন। বেবি কাঁথা, বড় নকশি কাঁথা, কুশন কভার, টেবিল ক্লথ, ওয়ালম্যাট—সবই রয়েছে তার পণ্যের তালিকায়। এসব পণ্যের দামও সাশ্রয়ী। বেবি কাঁথা বিক্রি হয় ১০০-১৫০ টাকায় আর বড় কাঁথার দাম ১০০০-২০০০ টাকার মধ্যে।

রুমা জানান, প্রতি মাসে তার হাতে তৈরি হয় ৪০ থেকে ৫০টি কাঁথা। বর্তমানে তার অধীনে কাজ করছেন প্রায় ৯-১০ জন নারী। কারো স্বামী নেই, কেউ গৃহিণী, আবার কেউবা শিক্ষার্থী—সবাই এখন রুমার এই উদ্যোগের অংশ। প্রতিজন নারী মাসে আয় করছেন গড়ে ৫-৭ হাজার টাকা। আর রুমা নিজে আয় করছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

রহিমা নামের এক কর্মী বলেন, “স্বামীর আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল। প্রথমে স্বামী কাজ করতে নিষেধ করলেও এখন আয় দেখে তিনিই উৎসাহ দেন। সংসার এখন অনেকটা স্বচ্ছল।”

রুমা আক্তার বলেন, “এই কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি চাই, সমাজের অবহেলিত স্বল্পআয়ের নারীরাও যেন নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারে। আমি তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ার স্বপ্ন দেখি।”

তার এই অনবদ্য কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে। ২০২৪ সালে কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ‘সেরা জয়িতা’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রুমার ‘নকশি ঘর’ নামক কর্মস্থলে নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নকশি কাঁথা সেলাইয়ে। একদিকে চলছে কথা, অন্যদিকে শিল্পকর্মের সূক্ষ্ম কাজ—এ যেন শিল্প আর জীবনের মেলবন্ধন।

রুমা আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া যেত। আমি চাই আরও বেশি নারী আমার সঙ্গে কাজ করুক, স্বপ্ন দেখুক, স্বাবলম্বী হোক।”

লোকশিল্পের শেকড় ধরে রুমা আক্তার পুতুল আজ এক আলোকবর্তিকা, যিনি প্রমাণ করেছেন—নকশির ফোঁড়েও বোনা যায় জীবনের রঙিন স্বপ্ন।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com