যশোর প্রতিনিধি :
যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এসব অফিসে দালালদের সহায়তা ছাড়া একটি ফাইল নড়াতো দুরের কথা, কোন কাজই হয় না। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে ৩/৪ গুণ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলে সেবাগ্রহীতারা জানিয়েছেন। শুধু তাই ন্য় টাকা দিলেও দালালদের হাতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও তারা জানান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিসে কর্মকর্তা – কর্মচারী থাকলেও দুজন ব্যক্তির কম্পিউটার থেকে রেকর্ডরুম পর্যন্ত অবাধ যাতায়াত। তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তাদের কেউ অফিসের নিয়োগপ্রাপ্ত কোন কর্মচারী নয়। জানা গেছে, ওই দুজন ব্যক্তিই অত্র অফিসে দালালি করেন। দালালিই তাদের আয় রোজগারের একমাত্র অবলম্বন।
রাখঢাক না করেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী থেকে শুরু করে অফিসের পিয়ন, ঘুষ-দুর্নীতির ‘রসের হাড়িতে’ মজে অনিয়মকে রূপ দিয়েছেন নিয়মে। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সরকারী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দিয়েছেন অপু ও আল-আমিন নামক দুজন ব্যক্তিগত সহকারী। আর এই ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদের দিয়ে।
সেবা নিতেআসা ভূমি মালিকেরা জানান, নামজরির জন্য অনলাইনে আবেদন করে প্রতিবেদনের জন্য ভূমি অফিসে গেলে প্রতিটি নামজারিতে ৪’হাজার টাকা বা তার বেশি নেওয়া হয়। খাজনার দাখিলার জন্য (ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ) সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও আবার রশিদ দেওয়া হয় সরকারি হিসাবেই। জরুরী নামজারিতে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয় জমির মালিকদের। গ্রামের সাধারন অল্প শিক্ষিত ও নিরক্ষর মানুষজন এখনো ইউনিয়ন অফিসে নামজারির জন্য গিয়ে ধর্ণা দিতে থাকেন। জমির বৈধ মালিক যেই হোক, সেবা নিতে হলে টাকা দিতে হয় দালালদের। তাদের চাহিদা মাফিক টাকা না দিতে পারলে হয়রানির শিকার হতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। হয়রানির মাধ্যমে আদায় করেন হাজার হাজার টাকা। আবার এদের বিরুদ্ধে কথা বললে জমি নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। দালালদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার মেলেনি।
নিয়ম বর্হিভূতভাবে দুজন ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ দেওয়া ও তাদের বেতন কিভাবে আসে এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজের সুবিধার্থে আমি দুজন ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ দিয়েছি। দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরা ও দুপুরের খাবারের টাকা আমি আমার বেতন থেকে দিয়ে থাকি। আমি জানি এটি সরকারী নীতিমালা বর্হিভূত। এটি করা আমার ভুল হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কিনা সেটি আমার জানা নেই।
রেকর্ডরুমে তাদের যাওয়া ও ভলিউম বহি দেখভালের কোন সুযোগ তাদের আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, অনেক আগে এরা আমাদের অফিসে ছিল বলে আমি তাদের যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি।
প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি অফিসে ব্যক্তিগত জনবল নিয়োগ ও রেকর্ডরুমে তাদের অবাধ যাতায়াতে সরকারি গোপন তথ্য ও নথি কতটুকু সুরক্ষিত? যদি সরকারি নথির কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় তার দায়ভারই বা কার ? একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কাজ করানোর জন্য দুজন ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ দিয়েছেন তার বেতনই বা কত ? তিনি যে বেতন পান তা থেকে ব্যক্তিগত সহকারীর বেতন দেওয়ার পর তার সংসার চলে কিভাবে ? তাহলে তিনি ঘুষ-দুর্নীতির পন্থা অবলম্বন করছেন না-তো ?
সংবাদ সংগ্রহকালে ঘুষ – দুর্নীতির সংবাদ ধামাচাপা দিতে ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্রীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
জনদুর্ভোগ চরমে পৌছে যাওয়ায় সাধারন মানুষ এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি জানতাম না, যেহুতে জানলাম, তারসাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
২য় পর্ব আসছে…………..
Leave a Reply