নড়াইল সংবাদদাতা :
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিন বছর আগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নে শুরু হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। বড়দিয়া-কালিয়া সড়কের দুই পাশে রোপণ করা হয়েছিল ১৯৭১টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ। সময়ের ব্যবধানে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় আবারও শুরু হয়েছে নতুন করে চারা রোপণের কার্যক্রম।
গত সোমবার (৪ আগস্ট) বড়দিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে নতুন এই রোপণ কার্যক্রমের পুনরায় উদ্বোধন করা হয়। এ বছর অতিরিক্ত ৬০০টি গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে—বট, পাকুড়, অশ্বত্থ, কাঠবাদাম, আমলকী, বহেরা, অর্জুন, চালতা, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, আমড়া, টগর, রক্তকরবী, শিমুল, কদম, ছাতিম এবং জারুল।
খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জানান, ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির উদ্যোগে ইউনিয়নের প্রধান সড়কের পাশে ১৯৭১টি গাছ রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্থানীয় শুভানুধ্যায়ীরাও অংশ নেন। নিয়মিত পরিচর্যায় অনেক গাছ বড় হয়ে ফুল-ফল দিতে শুরু করেছে। তবে কিছু গাছ মারা যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িকে বৃক্ষরোপণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার বাড়ির মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার বাড়িতে বিভিন্ন চারা রোপণ করা হয়েছে। এ বছর বাকি এক হাজার বাড়িতে দুটি করে আমের চারা লাগানো হবে।
এই অনন্য উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা ইউপি চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ, যিনি সিপিবি নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি। তিনি বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ভবিষ্যতে ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান স্মরণেও এ ধরনের কাজ করতে চাই। ইতিহাস, চেতনা ও সংগ্রাম যেন বৃক্ষ ও ফুলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বেঁচে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এক টাকাও সরকারি অর্থ ব্যবহার করিনি। ব্যক্তিগত ও স্থানীয়দের সহায়তায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছি। তবুও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়া কিছুটা কষ্ট দেয়, যখন দেখি কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়েই অনেকে পুরস্কার পাচ্ছেন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য পারভীন ইসলাম, ইতিকা দাস, শিরিনা বেগম, রিজ্জাক খন্দকার, বাবলু শেখ, ঈমান আলী, রাজিব খান, ওহিদুর খান এবং বড়দিয়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর রায় প্রমুখ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই গাছ শুধু সৌন্দর্যই নয়, পরিবেশ রক্ষা, খাদ্য, ঔষধ ও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। একাত্তরের গৌরবকে বৃক্ষে রূপ দেওয়ার এমন অনন্য উদ্যোগ সারা দেশের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply