অনলাইন ডেক্স :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের জন্য কড়া আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আওতায় ড্রোন ও কুয়াডকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় গণমাধ্যমও রয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপরও কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, “ড্রোন এবং কুয়াডকপ্টার জাতীয় কোনো ডিভাইস কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা গণমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ, কোনটা গণমাধ্যম আর কোনটা নয়, তা নির্ধারণ করা কঠিন। তাছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত আছে।”
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য রমজানের আগেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিশন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটের তারিখের দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে, যা ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই প্রকাশিত হতে পারে।
এআই সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “এআই ব্যবহার করে ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন), বিভ্রান্তিকর তথ্য (ডিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি (ম্যালইনফরমেশন) ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ভয়েস ক্লোন করে বা ভিডিও এডিট করে ভুয়া অডিও-ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট তৈরি করে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। এগুলো ঠেকাতে আমাদের আচরণবিধিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এআই সংক্রান্ত অপপ্রচার রোধে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখার লক্ষ্যে ইসির এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply