রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

ভবদহে ফের জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি ২৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৯.৫৫ অপরাহ্ণ
  • ২৬১ বার

যশোর সংবাদদাতা :

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে অভয়নগর উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম তলিয়ে গেছে পানির নিচে। ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের, বসতবাড়ি সবই এখন পানির রাজ্যে। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবার কোমর সমান পানি। চরম বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোটা, বাগদাহ, আন্ধা, চলিশিয়া, বলারাবাদ, বেতভিটা, স্বরখোলা সহ কমপক্ষে ২৫টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসায়। কোটা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ২০টি পরিবারের শতাধিক সদস্য।

বিলপাড়ের আমেনা বেগম বলেন, “তিনদিন আগে ঘর ছেড়ে স্কুলে এসেছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখানে খুব কষ্টে আছি। কবে বাড়ি ফিরতে পারবো জানি না।”

অপরদিকে, মাছচাষি কওসার গাজী জানান, “আমার সাত বিঘার মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু আমার না, বিলের আরও অনেকের ঘেরের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এখন আমরা পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখি না।”

ডুমুরতলা এলাকার বেতভিটায় দেখা গেছে, অনেক পরিবার রাস্তায় পলিথিন টানিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। খাবার রান্নার জন্য শুকনো জায়গার অভাব, পানিবন্দি মানুষদের আয়-রোজগার বন্ধ—সব মিলিয়ে এলাকাজুড়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয় চলছে। এখনও পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন বা কোনো বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ বা সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

তবে ভবদহ এলাকার টেকারঘাট, বয়ারঘাট ও ভাটাডাঙ্গি এলাকায় অবৈধ নেট-পাটা অপসারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছুটা তৎপরতা শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে ভবদহ অঞ্চলে আবারও পানি জমেছে। তবে দ্রুত পানি সরাতে আমডাঙ্গা খাল ও ভবদহের ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। আশা করছি, গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কম হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতিবছর এভাবেই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com