অনলাইন ডেক্স :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কহার ৫০ শতাংশে উন্নীত করায় ভারতের অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে তৈরি পোশাক খাত, যেখানে গ্লোবাল কোম্পানি পার্ল গ্লোবাল বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাপ ও কোলসের মতো শীর্ষ ক্রেতারা ক্রমাগত উদ্বেগ জানিয়ে পার্ল গ্লোবালকে বাড়তি শুল্কের বোঝা সামলানোর চাপ দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় পার্ল গ্লোবাল ঘোষণা করেছে, তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও গুয়াতেমালায় নিজেদের ১৭টি কারখানা স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্ক এড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্ল গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুল্কবৃদ্ধির কারণে সব ক্রেতাই এখন উৎপাদন অন্য দেশে সরানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার ভারতীয় তৈরি পোশাকের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা তখন বাংলাদেশের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর চেয়ে বেশি ছিল না। কিন্তু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে ধীরে ধীরে শুল্কের হার বেড়ে বর্তমানে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ ও চীনের ওপর ৩০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বজায় আছে।
পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, কিছু মার্কিন ক্রেতা শুল্ক ভাগাভাগি করার প্রস্তাব দিলেও এটি কার্যকর সমাধান নয়। এ পরিস্থিতিতে ভারতের তৈরি পোশাক শিল্প নেপাল ও ইথিওপিয়ার মতো কম পরিচিত দেশগুলোতেও উৎপাদন স্থানান্তরের চিন্তা করছে।
মোটকথা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ভারতীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে, যার ফলে কোম্পানিগুলো বাধ্য হচ্ছে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজতে। এটি ভারতের অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
Leave a Reply