অনলাইন ডেক্স :
রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-১ গোলের হারেও থেমে থাকেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দলের স্বপ্ন। দিনের অন্য ম্যাচগুলোর সমীকরণে ভর করে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। সেরা তিন রানার্সআপের একটি হয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা।
বাংলাদেশের জন্য নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল চীন-লেবাননের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচ। চীন জিতুক—এমন প্রার্থনাই ছিল বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত চীন ৮-০ গোলে লেবাননকে হারালে মুখে হাসি ফুটে তৃষ্ণা-আফঈদাদের।
গত মাসেই নারী জাতীয় দল মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। মাত্র ৩৮ দিনের ব্যবধানে নারী ফুটবলে যোগ হলো আরেকটি মাইলফলক—এই প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলও জায়গা করে নিলো এশিয়ান কাপে। জাতীয় দল আগামী মার্চে খেলবে অস্ট্রেলিয়ায়, আর অনূর্ধ্ব-২০ দল লড়বে থাইল্যান্ডে ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
১২ দলের এই টুর্নামেন্ট থেকে সুযোগ মিলবে ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে খেলারও। আগামী বছর পোল্যান্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এশিয়ান কাপের চার সেমিফাইনালিস্ট সরাসরি খেলবে। অর্থাৎ জাতীয় দলের মতোই ইয়ুথ দলের সামনে এখন বিশ্বকাপের হাতছানি।
বাংলাদেশ ‘এইচ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে ৩-১ গোলে স্বাগতিক লাওসকে ও দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে নামে। ড্র করলেই সরাসরি উঠতে পারত চূড়ান্ত পর্বে, তবে জয়ের জন্যই খেলতে নামে মেয়েরা। ম্যাচের ১৫ মিনিটে তৃষ্ণার গোলে এগিয়ে গেলেও ১৯ মিনিটে সমতায় ফেরে কোরিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ এ।
দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়ার অধিনায়ক চো হাইইয়ং হ্যাট্রিকসহ চার গোল করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন। শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল হজম করে ৬-১ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে আফঈদা-জয়নবরা।
তবুও চীনের জয়ে বদলে যায় সব হিসাব। সেরা রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল নিশ্চিত করল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার গৌরব।
Leave a Reply