অনলাইন ডেক্স :
আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। আজ সেই মাঠেই, যেখানে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল, ভক্তদের সামনে শেষবারের মতো মাঠ মাতালেন মেসি। জোড়া গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে মেসির পরিবারের উপস্থিতি। বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান – সবাইকে সামনে রেখে স্বপ্নপূরণের শেষ মুহূর্ত ভাগাভাগি করেছেন তিনি। কণ্ঠে আবেগ মিশ্রিত মেসি বলেন, “এভাবেই শেষ করতে পারা আমার সবসময়ের স্বপ্ন ছিল। আমার নিজের মানুষদের সঙ্গে এভাবে বিদায় নিতে পারাটা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
মেসির বিদায়কে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল এক অদ্ভুত আবেগঘন পরিবেশ। কেউ আনন্দে উল্লাস করেছেন, কেউবা চোখের জলে বিদায় জানিয়েছেন প্রিয় তারকাকে। বার্সেলোনায় দীর্ঘদিন খেলে যে ভালোবাসা পেয়েছিলেন, সেটিই যেন মিলে গেল নিজের দেশের মাটিতেও।
জাতীয় দলের হয়ে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের মতো মহাকাব্যিক সাফল্য মেসির ক্যারিয়ারকে করেছে বর্ণাঢ্য। তবে নিজের দেশে শেষবারের মতো খেলে তিনি জানালেন, “অনেক বছর ধরে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু আমি ভালো জিনিসগুলোই মনে রাখতে চাই। আমাদের দল চেষ্টা করেছিল, শেষে সব সম্ভব হয়েছে। এই যাত্রা অসাধারণ।”
আজকের ম্যাচে মেসির দুই গোল, জাদুকরী পাস এবং মাঠে দৌড় সবই দর্শকদের জন্য ছিল এক আবেগঘন উপহার। যদিও আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে তিনি খেলবেন না—এমন ঘোষণা আগেই দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে মেসি জানান, “বয়স হয়েছে, মনে হয় না আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে পারব। তবে এখনো অনুপ্রেরণা পাই, দিন আর ম্যাচ ধরে এগোতে চাই।”
তার বিদায় ভক্তদের হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে অদ্ভুত শূন্যতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো ভক্ত জানাচ্ছেন ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, মেসি শুধু একজন খেলোয়াড় নন; তিনি খেলার মান, নীতি আর আবেগের প্রতীক, যার অবদান বিশ্ব ফুটবলের জন্য অনন্য।
Leave a Reply