অনলাইন ডেক্স :
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা ধানের আরও পাঁচটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন, যেগুলো মাঠ পর্যায়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। আগামী সপ্তাহে কারিগরি কমিটির সভায় উপস্থাপনের পর এগুলো জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুতই জাতগুলো কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ও চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার (সিএসও) ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা বলেন, “আমরা এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি। নতুন জাতগুলো দেশের ধান উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
ব্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা ১১৪টি। নতুন পাঁচটি জাত অনুমোদনের পর এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৯টিতে। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ব্রিধান-১১৫: ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ জাত, যাতে ১৫ পিপিএম মাত্রার ভিটামিন-ই পাওয়া যাবে। এটি শরীরের কোষ ক্ষয় প্রতিরোধ, ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালীকরণ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।
ব্রিধান-১১৬: ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট সহনশীল জাত, যা প্রতি হেক্টরে ৯.১ টন পর্যন্ত ফলন দেবে।
ব্রিধান-১১৭: লবণাক্ত সহনশীল জাত, যা দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতেও উচ্চ ফলন দেবে।
ব্রিধান-১১৮: শীতল সহনশীল জাত, যা বিশেষত হাওর এলাকায় ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতি প্রতিরোধে সক্ষম।
ব্রিধান-১১৯: দীর্ঘ জীবনকালের বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল জাত, যা ব্রিধান-৮১-এর চেয়ে এক টন বেশি ফলন দেবে।
বিজ্ঞানীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র গরম, অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও শীতের প্রভাব ধান উৎপাদনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পাশাপাশি নতুন ধরনের পোকার আক্রমণও সমস্যা তৈরি করছে। এসব বাধা কাটাতে পরিবেশ সহনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে ব্রি।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, “দেশে বর্তমানে ধান উৎপাদন চার কোটি টনেরও বেশি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে এই নতুন জাতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
Leave a Reply