নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে ডাঃ মোখলেছুর রহমান নামে একজন ডিগ্রি ছাড়া ডেন্টিস্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। কোনরকম ডিগ্রি ছাড়াই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে ২৬ বছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন নামে খুলেছেন দুই দুটি চেম্বার। দুটি চেম্বারেই রোগী দেখছেন নিয়মিত।
সোমবার (০৮ আগষ্ট) দৈনিক ভোরের চেতনা ও যশোর বার্তা পত্রিকার অনুসন্ধানে এ ডিগ্রি ছাড়া ডেন্টিস্টের তথ্য লোকসম্মুখে আসে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মোকলেছুর রহমান ১৯৯৭ সালে ঢাকায় একজন ডেন্টাল চিকিৎসকের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকে তিনি হাতে-কলমে কাজ শিখে রাজগঞ্জ বাজারে ফাহিম ডেন্টাল হল নামে প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিজেকে দাতের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিতে থাকেন। স্থানীয় বাজারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আছে জেনে সাধারন মানুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে শুরু করে। কোনরকম ডেন্টাল ডিগ্রি ছাড়াই তিনি নামের আগে ‘ডাঃ’ পদবী ব্যবহার করতে থাকেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অনুসরনে তৈরি করেছেন ব্যবস্থাপত্র। নামের আগে ডেন্টিস্ট এবং নিচে কোন ডিগ্রি উল্লেখ না থাকলেও, বাংলাদেশ ডেন্টাল এসোসিয়েশন (বিডিএ) লিখে রেখেছেন ডিগ্রি হিসেবে কিন্তু তিনি তার স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ব্যবসা জমজমাট হওয়ায় একই বাজারে নাফিস ডেন্টাল কেয়ার নামে আরও একটি চিকিৎসালয় গড়ে তুলেছেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি দাঁত তোলা, বাঁধানো, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্যাপ, ব্রিজসহ সকল ধরনের দাঁতের চিকিৎসা প্রদান করে চলেছেন।
এবিষয়ে দ্বন্ত চিকিৎসক মোখলেছুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যখন কাজ শিখি তখন কোন প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ছিল না। ঢাকা থেকে একজন ডাক্তারের কাছ থেকে কাজ শিখে নিজে চেম্বার করেছি। আমার দুটি চেম্বার, একটিতে আমি আর অন্যটিতে আমার ছেলে ফাহিম (বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে বিডিএস কোর্সে ভর্তিরত) চেম্বার করেন।
ডিগ্রি ছাড়া চেম্বার করা যায় কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আমাদের সময় কোন কোর্স ছিল না। আমি বিডিএ এসোসিয়েশনের সদস্য। আমি চেম্বার করতে পারব।
প্রশ্ন উঠেছে, যিনি বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে বিডিএস কোর্সে ভর্তিরত, তিনি মনিরামপুরে কিভাবে নিয়মিত চেম্বার করেন?
স্থানীয়দের দাবি, খুব দ্রুতই এই ডিগ্রি ছাড়া ডেন্টিস্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, ডিগ্রি ছাড়া চেম্বার পরিচালনা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে বা প্রতিবেদন হলে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
Leave a Reply