কল্যান রায় (জয়ন্ত) :
যশোরের বাঘারপাড়ায় দন্ত চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কাজী মঈনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাঘারপাড়া থানা বাজার এলাকায় ফাজিল মাদরাসার মেইন গেটের পূর্বপাশে এসবি টাওয়ারে চেম্বার চালিয়ে আসছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি খুলনার একটি নামসর্বস্ব প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কোর্স করে কোনো স্বীকৃত মেডিকেল ডিগ্রি ছাড়াই ‘কাজী ডেন্টাল কেয়ার’ নামে চেম্বার গড়ে তুলেছেন।
দৈনিক সমাচার দর্পণ পত্রিকার ১০ সেপ্টেম্বরের অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেখা গেছে, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও মঈনুল নিজেকে দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে প্রচার করছেন। ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডেন্টিস্ট’ পদবী ব্যবহার করে চিকিৎসা দিচ্ছেন দাঁত তোলা, বাঁধানো, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্যাপ, ব্রিজসহ দাঁতের বিভিন্ন রোগের।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর নীতিমালা অনুযায়ী, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যতীত কেউ নামের আগে ডাক্তার বা ডেন্টিস্ট লিখতে পারবেন না। আইনের ২৯ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভুয়া পদবী ব্যবহার করলে ৩ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মঈনুল ইসলাম স্বীকার করেন যে তিনি খুলনা থেকে প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা জানতেন না মঈনুল ভুয়া চিকিৎসক। তারা তার শাস্তি দাবি করেছেন।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ডিগ্রি ছাড়া চেম্বার পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply