কল্যান রায় (জয়ন্ত) :
যশোরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে প্যাথলজিষ্ট ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন তদন্তে জানা গেছে, হাসপাতালে যিনি প্যাথলজিষ্টের দায়িত্ব পালন করছেন এবং রোগীদের হাতে রিপোর্ট দিচ্ছেন, তার কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা সনদ নেই। হাসপাতালের নিয়োগপত্র এবং যোগদানপত্রের নথি যাচাই করেও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সনদপ্রাপ্ত ও নিবন্ধিত প্যাথলজিষ্ট ছাড়া রিপোর্ট প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু সেন্ট্রাল হাসপাতালে এ নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
চিকিৎসকরা বলছেন, চিকিৎসার সঠিক সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করে পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর। ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীরা ভুল চিকিৎসা পেতে পারেন, যা প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হাসপাতালের তথাকথিত প্যাথলজিষ্ট ফতে মুহাম্মদ খান ওরফে কিরন খানের দাবি, তিনি ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং কোনো সনদপ্রাপ্ত প্যাথলজিষ্ট ডাক্তার নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের রেকর্ডে উল্লেখিত ডাক্তার মীর ফয়জুল হক নামে কোনো ব্যক্তি সেখানে কর্মরতই নন। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্রের তথ্যকে ‘টাইপিং মিসটেক’ বলে উল্লেখ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, তদন্ত কমিটি গঠন, প্যাথলজিষ্ট ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুদ রানা জানিয়েছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তথ্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply