অনলাইন ডেক্স :
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই উদ্যোগে অন্তত ৫০ লাখ প্রবাসীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ৪০টি দেশে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে। প্রবাসীদের ভোটে অন্তর্ভুক্ত করতে মোট ৪০০ কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। ভোটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ ৪০টি দেশে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবেই আছেন ৪০ লাখের বেশি প্রবাসী, আর সবচেয়ে কম নিউজিল্যান্ডে, যেখানে প্রবাসীর সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজার।
প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ করে দিতে তৈরি করা হচ্ছে ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ, যার জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। নভেম্বরে অ্যাপটি চালু হওয়ার পর প্রবাসীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাবেন এবং ভোট প্রদান করবেন।
ভোটার নিবন্ধন শেষে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ব্যালটে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকবে, প্রার্থীর নাম থাকবে না। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা অনলাইনে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর প্রবাসীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দিয়ে ডাকযোগে তা ফেরত পাঠাবেন।
দেশে ভোটের অন্তত ২০ দিন আগে প্রবাসীরা ভোট প্রদান করবেন। ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রাপ্ত ব্যালটগুলো সংশ্লিষ্ট আসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে এবং নির্বাচনের দিন দেশের ভোটের সঙ্গে একত্রে গণনা করা হবে।
বর্তমানে ১০ দেশের ১৭টি দূতাবাসে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশে এই কার্যক্রম শুরু হবে। ইতিমধ্যে ৫৫ হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদন করেছেন, যার মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমিত পরিসরে হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের সুযোগ বাস্তবায়ন করতে চায় কমিশন। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে প্রবাসী ভোটের হার ২০-২২ শতাংশের বেশি হয় না। তবে বাংলাদেশে অন্তত ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে যুক্ত করার আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply