অনলাইন ডেক্স :
জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য এবং অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক জেরোমে বোয়াটেং আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার প্রায় দুই দশক ধরে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন।
বোয়াটেং তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে। বায়ার্নের জার্সিতে তিনি খেলেছেন ৩৬৩টি ম্যাচ এবং জিতেছেন দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। জার্মান জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন ৭৬ বার।
তবে শেষ মৌসুমে অস্ট্রিয়ার ক্লাব লাস্ক লিনৎসে কঠিন সময় পার করার পর বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চলতি মৌসুম শুরুর মাত্র ১৩ দিন পরই বাতিল হয় তার চুক্তি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় বোয়াটেং বলেন, “আমি অনেক কিছু শিখেছি, জিতেছি, হেরেছি। ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখন সময় হয়েছে এগিয়ে যাওয়ার, কারণ আমি প্রস্তুত।”
হার্থা বার্লিন একাডেমি থেকে উঠে আসা বোয়াটেং ২০১০ সালে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন। তবে ইউরোপজুড়ে সাফল্য পান বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে। ২০২১ সালে বুন্দেসলিগা ছাড়ার পর তিনি খেলেছেন ফরাসি ক্লাব লিওঁ, ইতালির স্যালের্নিতানা এবং সর্বশেষ অস্ট্রিয়ার লাস্কে। শেষ ক্লাবে তার সময়টা খুব একটা সুখকর ছিল না—মে ২০২৪-এ যোগ দেওয়া লাস্কে খেলেছেন মাত্র ১৩টি ম্যাচ।
বোয়াটেংয়ের ক্যারিয়ারে এক অন্ধকার অধ্যায়ও ছিল। ২০১৮ সালের এক ঘটনার পর সাবেক বান্ধবীর ওপর ‘ইচ্ছাকৃত শারীরিক ক্ষতি’ করার অভিযোগে জার্মান আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। যদিও গুরুতর অভিযোগ থেকে খালাস পান, তবে জরিমানা ও সতর্কবার্তা পেতে হয় তাকে। এর প্রভাব পড়ে মাঠের বাইরেও—লাস্কের সমর্থকরা মার্চে তাকে “ওয়াইফ বিটার” বলে দুয়ো দেয়।
তবুও লাস্কের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডিনো বুরিচ তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানিয়ে বলেন, “জেরোমে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য ছিলেন আদর্শ মেন্টর। তার অভিজ্ঞতা দলকে সাহায্য করেছে।”
জেরোমে বোয়াটেংয়ের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য নিঃসন্দেহে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয়, যেখানে তিনি ছিলেন জার্মানির রক্ষণভাগের অটল প্রহরী।
Leave a Reply