যশোর সংবাদদাতা :
যশোরে তেলপাম্প দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের পরদিনই নিজেই সংবাদ সম্মেলন করেছেন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ এনে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে।
লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯৯ সালে রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিলের মাধ্যমে গোলাম কিবরিয়ার কাছ থেকে ১৭ শতক জমি কিনে মেসার্স কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১২-১৩ সালে কিবরিয়া আর্থিক সংকটে পড়লে তিনি তার ভাই জামালের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে কিবরিয়াকে দেন এবং এর অঙ্গীকারনামা তার কাছে রয়েছে।
আনোয়ারের দাবি, ২০২২ সালের জুনে গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ–সমর্থিত একটি পক্ষ ২০২৪ সালে তেলপাম্পে হামলা চালিয়ে খুলনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। পরে মিথ্যা মামলায় তাকে আটক করে পাম্প দখল করে নেয় কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুমা ও সহযোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার বলেন, ২০১৭ সালে কিবরিয়ার ঋণের কারণে তার জমি, বাড়ি ও সম্পদ নিলামে ওঠে। তখন ১১৫ শতক জমিসহ তনিমা ফিলিং স্টেশন ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় জামাল হোসেন কিনে নেন। পরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তর খুলনা নতুন লাইসেন্স দিয়ে ‘মেসার্স আনোয়ার ফিলিং স্টেশন’ নামে অনুমোদন দেয়, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর। অথচ সেটিও তনিমারা দখলে রেখেছেন বলে দাবি আনোয়ারের।
তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আনোয়ার তার ফিলিং স্টেশন পরিচালনার সময় তেল উত্তোলনের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। একইভাবে টাকার উৎস ও একাধিক মামলা প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট উত্তর দেননি। বরং আওয়ামী লীগ–সমর্থিত একাধিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলকে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকার অভিযোগ করেন।
তিনি তনিমা তাসনুমার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা থাকার কথা উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারের ভাই জামাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply