আর্ন্তজাতিক ডেক্স :
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় একদিনেই অন্তত ৮৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-আহলি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারের ওপর বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজন নারী ও দুজন শিশু ছিলেন। স্টেডিয়ামটি বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
গাজা সিটি থেকে পালিয়ে আসা এক নারী নাজওয়া আল জাজিরাকে বলেন, “হাতে যা ছিল তাই নিয়ে বেরিয়েছি। আমাদের কিছুই বাকি নেই। আতঙ্কে আছি, চলাফেরা ব্যয়বহুল, কিছু আনার সামর্থ্যও নেই।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হাজার হাজার মানুষকে দক্ষিণে পালাতে বাধ্য করছে। যদিও ইসরায়েলের সেনাপ্রধান এয়াল জামির দাবি করেছেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে” এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গাজায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে গাজায় স্থায়ী দখল প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, আরও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
এদিকে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন বিশ্বনেতারা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, “যারা শিশু হত্যা করে মানুষকে ভয় দেখায়, তারা মানবতার যোগ্য নয়।” সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারআ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধ এখনই থামাতে হবে।”
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। অপরদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ বলেন, ওয়াশিংটন “আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী” যে অচিরেই শান্তি পরিকল্পনার ঘোষণা আসবে। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২১ দফা শান্তি প্রস্তাব ইতোমধ্যে বিশ্বনেতাদের কাছে পৌঁছেছে।
তবে পূর্ববর্তী শান্তি প্রচেষ্টা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কারণে ব্যর্থ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি দোহায় হামাস নেতাদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন, যারা শান্তি আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। এর আগে ১৮ মার্চ তিনি একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় বোমাবর্ষণ শুরু করেন এবং পূর্ণাঙ্গ অবরোধ আরোপ করেন, যার ফলে দুর্ভিক্ষ ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
Leave a Reply