রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

জামায়াতের পাঁচ দফা দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯.০৪ অপরাহ্ণ
  • ৫৯ বার

যশোর সংবাদদাতা:

ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোরে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোর জজর্কোট চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং দলীয় পাঁচ দফা দাবি পুনরায় ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও যশোর জেলা জামায়াতের আমির, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে এই আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে অর্জন হয়েছে, তা এখনো আইনগত স্বীকৃতি পায়নি; তাই জুলাই জাতীয় সনদকে আইনী ভিত্তি প্রদান করে নির্বাচন আয়োজন জরুরি। না হলে অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।”

জামায়াতের ঘোষিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন- পিআর) পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা, স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শহর আমির অধ্যাপক শামসুজ্জামান ও জেলা কার্যপরিষদের সদস্য অধ্যাপক আবুল হাসেম রেজা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না; জনগণ তাদের রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছে—এখন সেই অর্জনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।”

বক্তারা আরও দাবি করেন যে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে না এবং এই দাবি বাস্তবায়ন না করলে ন্যায়ভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তারা দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “গণতন্ত্রের নাম ব্যবহার করে যারা স্বৈরাচার কায়েম করেছে, তাদের দেশেই কোনো স্থান থাকবে না।”

সমাবেশে জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে—অভিযান শেষে নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যত কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com