খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা :
খাগড়াছড়ি জেলায় এক পাহাড়ি কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পার্বত্য এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতের ঘটনায় কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে একজন অভিযুক্ত শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে, তবে বাকি দুই আসামি এখনও পলাতক।
এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ডেকে খাগড়াছড়ি জেলায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। শহরের যান চলাচল বন্ধ, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে সাতটি প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন মোড়ে পুলিশের টহলও চলছে।
শনিবারের প্রতিবাদে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদর উপজেলা, পৌরসভা এলাকা ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে পাহাড়িদের অভিযোগ, আইন অমান্য করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এরই প্রতিবাদে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জুম্ম ছাত্র-জনতার চার দফা দাবি:
১. ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
২. জুম্ম ছাত্র-জনতার সমাবেশে হামলাকারীদের বিচার।
৩. আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
৪. হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন।
জুম্ম ছাত্র-জনতার মুখপাত্র দ্বীপায়ন ত্রিপুরা জানান, অবরোধ শান্তিপূর্ণ হবে এবং জরুরি সেবা চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায্য বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. আবদুল বাতেন বলেন, বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোথাও পিকেটিং দেখা যায়নি, তবে কিছু উপজেলায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
Leave a Reply