সমাচার ডেক্স :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টে মন্তব্য করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের অন্য দলে যুক্ত করার নীতি শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, “জামায়াত এবং শিবিরের অন্য দলে কর্মী যুক্ত করার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি। তারা তাদের কর্মীদের পরিচয় অপ্রকাশ্য রেখে বিভিন্ন দলে যুক্ত করছে, যা সংশয় তৈরি করছে এবং দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের কৌশল কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, সাংস্কৃতিক সংগঠনেও প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন সংগঠনে অপ্রকাশ্য সদস্য যুক্ত হওয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারা ক্ষুণ্ন করছে।
রাশেদ খাঁনের মতে, বাম, ডান বা মধ্যপন্থী—কোনো দলই এ কৌশল থেকে বাদ যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াত-শিবির ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সময় উপভোগ করছে। যদি তারা মধ্যপন্থী রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চায়, সেটা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য, তবে নীতি প্রকাশ্য হওয়া উচিত। অন্য দলে প্রভাব বিস্তার বন্ধ না করলে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজনীতিকরণ ও ভাঙনের মুখে পড়বে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এ ধরনের নীতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। রাশেদ খাঁন সতর্ক করে বলেন, “দেশের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জামায়াত-শিবিরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইসলামকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে হলে সতর্ক হতে হবে। মধ্যপন্থী রাজনীতির সঙ্গে ইসলাম মিশালে জনগণ ইসলামিক দল সম্পর্কে ভুল বার্তা পাবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসলামিক রাজনীতি করলে পুরোপুরি সেটাই করতে হবে, আর মধ্যপন্থী রাজনীতি করলে সেটাই পালন করতে হবে। ‘পলিটিকাল ইসলাম’ নামে কোনো কৌশল নেই। এ ধরনের কৌশলের কারণে ইসলামকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।”
রাশেদ খাঁন তার বক্তব্য শেষ করেন দোয়া করে—“এই ক্ষতি থেকে মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন। আমিন।”
Leave a Reply