চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে নিহত ১৮ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন ও জাপানে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপান সরকারের মনোনীত একটি ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করে দেহাবশেষ উত্তোলন কার্য সম্পাদন করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয় বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায়।
এই সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চল। তত্ত্বাবধান ও খননকার্যে নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, খনন বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অব.), বীর প্রতীক।
দেহাবশেষ উত্তোলনের পর ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল কর্তৃক যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দেহাবশেষগুলো জাপানে পাঠানো হয়, যাতে তাদের নিজ দেশের মাটিতে পুনরায় সমাহিত করা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালে জাপান সরকারের অনুরোধে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত আরও ২৩ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবাসন কার্য সম্পন্ন করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
চট্টগ্রামে সম্পন্ন হওয়া এ কার্যক্রম যুদ্ধ ও ইতিহাসসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার আরেকটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply