দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ক্যামেরা হ্যাক করে স্পর্শকাতর ও যৌন শোষণমূলক ভিডিও তৈরি এবং বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তথ্য সোমবার (১ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রকাশ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা মূলত সেসব ক্যামেরা হ্যাক করত যেগুলোতে সহজ বা ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়। সিসিটিভির তুলনায় কম খরচে এসব আইপি ক্যামেরা বাড়ি, অফিস, শিশু ও পোষা প্রাণীর ওপর নজরদারি কিংবা ব্যবসায়িক নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়। হ্যাকারদের কবল থেকে বাদ পড়েনি ব্যক্তিগত ফ্ল্যাট, কারাওকে রুম, পিলাটিস স্টুডিও এমনকি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের ক্লিনিকের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানও।
জাতীয় পুলিশ সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চারজন অভিযুক্ত একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি এবং তারা পৃথকভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাদের মধ্যে একজন একাই ৬৩ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৫৪৫টি যৌন শোষণমূলক ভিডিও তৈরি করেছে, যা পরে ৩ কোটি ৫০ লাখ ওন সমমূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। অপরজন ৭০ হাজার ক্যামেরা হ্যাক করে ৬৪৮টি ভিডিও বিক্রি করেছে, যার মূল্য এক কোটি ৮০ লাখ ওন।
এই দুই ব্যক্তি গত এক বছরে বিদেশি একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অবৈধ ভিডিওর প্রায় ৬২ শতাংশের জন্য দায়ী বলে পুলিশ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন ওই ওয়েবসাইট বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর পরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও, ভিডিও কেনা বা দেখা আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাতীয় পুলিশের সাইবার তদন্ত প্রধান পার্ক উ-হিউন বলেন, “আইপি ক্যামেরা হ্যাকিং ও গোপন ভিডিও তৈরি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এটি ভুক্তভোগীদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে। আমরা এই ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে জোরালো তদন্ত চালিয়ে যাব।”
পুলিশ ইতোমধ্যে শনাক্তকৃত ৫৮টি স্থানের ভুক্তভোগীদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে এবং অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা ভিডিও মুছে ফেলা ও ব্লক করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
Leave a Reply