ভারতীয় উপকূলরক্ষীবাহিনী পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে বাংলাদেশি মাছ ধরার দুটি ট্রলার আটক করেছে। এই ঘটনায় মোট ২৮ বাংলাদেশি জেলে আটক হয়েছেন, যারা টানা ১৫ দিন ধরে সমুদ্রে ভাসছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার রাতে ‘এফ বি আল্লাহ মালিক’ নামের একটি বাংলাদেশি ট্রলার ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করে। ট্রলার ও জেলেদের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী তাদের আটক করে। পরে সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালের দিকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার কাছে জেলেদের হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশি জেলেরা সুস্থ আছেন।
অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার মোসাভানিপেটা উপকূলের কাছে আরও ১৩ বাংলাদেশি জেলে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা ভোলা জেলার বাসিন্দা এবং সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভুলবশত ভারতীয় জলসীমা অতিক্রম করেছেন। স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে খাবার, পানি ও ওষুধ সরবরাহ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
মেরিন পুলিশ সার্কেল ইন্সপেক্টর পি. প্রসাদ রাও ও স্থানীয় পুলিশের উপপরিদর্শক জি. লক্ষ্মণ রাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিকভাবে ভাষা ও পোশাক দেখে তাদের বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করা হয়। মাঝ-সমুদ্রে প্রায় ১৫ দিন ধরে ভাসার কারণে জেলেরা শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। পরে উপকূলরক্ষী বাহিনী তাদের কলিঙ্গপত্তনম থানায় হস্তান্তর করে।
আটক জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—সজীব (২১), জাহাঙ্গীর (৩৫), সাব্বির (২৫), খোকন (৩২), মাকসুদ (৪০), মালিক (৮০), মো. ফারুক (৫৫), মাকসুদ (৫০), নাসির (৬৫), হেলাল (২৮), ফারুক (৫০), আলম (৪৬) ও শামীম (২১)। সবাই বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার বাসিন্দা।
কলিঙ্গপত্তনম মেরিন সার্কেল ইন্সপেক্টর বি. প্রসাদ রাও জানিয়েছেন, ট্রলারে কারিগরি ত্রুটির কারণে তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা অতিক্রম করেছিলেন। খাবারের অভাবে জেলেরা দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভারতীয় জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Leave a Reply