শ্রীলঙ্কায় এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১০ এ পৌঁছেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এখনো অন্তত ৩৩৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে এএফপি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর এই বন্যা ও ভূমিধসকে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বর্ষণের কারণে দেশটির বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে গিয়ে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভূমিধসের ফলে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরকার এবং স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য ও মানবিক সংগঠনগুলোও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, পানি ও ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বন্যার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই স্থানীয় মানুষদের দূরে থাকার এবং নিরাপদ এলাকায় অবস্থান করার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন ও এলাকার অবকাঠামো পুনর্গঠন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
Leave a Reply