ভারতের জিডিপি ও ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস স্ট্যাটিস্টিক্সের উন্নতির পরও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভারতের জন্য ‘সি গ্রেড’ দিয়েছে। চলতি অর্থ বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি ৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, যা গত বছরের ৫.৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
তবুও, আইএমএফ ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়া: ২০২৫ আর্টিকেল ফোর কন্সালটেশন’ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার কারণে ভারতকে সি গ্রেড দেওয়া হয়েছে। এই গ্রেড চারটি পর্যায়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। আইএমএফের মান অনুযায়ী, সি গ্রেডের অর্থ ডেটায় কিছু ঘাটতি রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত ২০১১-২০১২ সালের ভিত্তিবর্ষ ব্যবহার করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। এছাড়া, দেশ প্রোডিউসড প্রাইস ইনডেক্স (উৎপাদক মূল্য সূচক) ব্যবহার না করে হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স ব্যবহার করছে। এছাড়া নন-ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানি (এনবিএফসি), খানা বা পরিবারের আর্থিক আন্তঃসংযোগ সম্পর্কেও সীমিত তথ্য রয়েছে।
আইএমএফের গ্রেডিং সিস্টেমে প্রথম গ্রেড এ, দ্বিতীয় বি, তৃতীয় সি এবং সর্বশেষ ডি। এ ক্ষেত্রে সি গ্রেড বোঝায়, ডেটায় কিছু ঘাটতি আছে, যা পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিরোধী দল কংগ্রেস এই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি জিডিপি বৃদ্ধির পরও আইএমএফ কেন সি গ্রেড দিয়েছে। বিপরীতে, বিজেপি জানিয়েছে, বিষয়টি অতীতের ভিত্তিবর্ষের কারণে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সমস্যা; ভারত যথাযথভাবে এগিয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি মজবুত হয়েছে।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসংগঠিত খাতের তথ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং জিডিপির গণনা প্রক্রিয়ায় কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। সাবেক অধ্যাপক অরুণ কুমার ও এমকে বেণু মত প্রকাশ করেছেন, সরকারি তথ্যের হেরফের, নোট বাতিল, জিএসটি প্রবর্তন ও কোভিডের কারণে অসংগঠিত খাতের ওপর প্রভাবের ফলে সঠিক পরিসংখ্যান উঠে আসে না। এমকে বেণু বলেন, “আইএমএফের সি গ্রেড ভারতের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর মধ্যে বড় আকারের তথ্য ত্রুটি আছে।”
বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন, জিডিপি বৃদ্ধির পরেও তথ্যের ঘাটতি, অসংগঠিত খাতের প্রভাব এবং পদ্ধতিগত অসঙ্গতি মেটাতে প্রয়োজন পদক্ষেপ, নইলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অর্থনৈতিক মান যাচাইয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
Leave a Reply