পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, ঘটনার দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিলখানায় না যাওয়ার জন্য পূর্বেই সতর্ক ছিলেন।
কমিশনের জবানবন্দিতে সাক্ষী মোহাম্মদ আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, বিডিআর সদর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মোস্তাক ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার এক বা দুই দিন আগে **শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মেজর শোয়েব মো. তারিক উল্লাহ (অব.)**কে সতর্ক করেন যেন প্রধানমন্ত্রী ওই দিনে পিলখানায় না যান। মেজর শোয়েব খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, শেখ হাসিনা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি পিলখানায় যাবেন না।
এছাড়া, বিডিআর সদর দপ্তরের দরজি আকাশ তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের জন্য ইউনিফর্ম বানানোর কাজ করেন। মেজর মোস্তাক তাঁকে নির্দেশ দেন, এবং সেই ইউনিফর্মটি পরে সোহেল তাজের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইউনিফর্মে কোনো র্যাংক না থাকলেও ডিপ সাইন ছিল, যা পরে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহিদ সেনা অফিসারদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল।
প্রসঙ্গত, বিডিআর বিদ্রোহ বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। এই হত্যাকাণ্ড ১১ মাস ধরে তদন্তের পর কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কমিশনের প্রতিবেদনে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের এবং শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply