পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের ৮ নম্বর কয়েদি সাক্ষী হাবিলদার জসিম জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে বিডিআর সৈনিকদের জন্য বরাদ্দকৃত ইউনিফর্মের কাপড় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অপসারণ করা হয়েছিল।
জবানবন্দিতে হাবিলদার জসিম বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুটি গাড়ি পিলখানায় এসে ভাণ্ডার থেকে ৯ থান ইউনিফর্মের কাপড় নিয়ে যায়। ভাণ্ডারে দায়িত্ব পালনরত অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে কাপড় দুইজন সিভিল অফিসারের হাতে হস্তান্তর করা হয়। হাবিলদার জসিম জানান, কাপড়টি তখনো সৈনিকদের জন্য ইস্যু করা হয়নি, বরং প্যারেডে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ব্যবহার করবেন এমন তথ্য জানা যায়।
বিডিআর সদর দপ্তরের দর্জি আকাশ তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে তিনি সোহেল তাজের জন্য ইউনিফর্ম তৈরি করতে তাঁর অফিসে গিয়েছিলেন। ইউনিফর্মের জন্য মাপ নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডিএডি তৌহিদ আকাশ, এবং পরে মাপ অনুযায়ী ইউনিফর্ম তৈরি করে সোহেল তাজের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইউনিফর্মে কোনো র্যাংক না থাকলেও ডিপ সাইন ছিল, যা শহিদ সেনা অফিসারদের মধ্যে বিস্ময় ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল।
আকাশ আরও জানিয়েছেন, সোহেল তাজ নিজে প্যারেড দেখবেন বলে নিজের জন্য ইউনিফর্ম বানানোর এই অভূতপূর্ব ঘটনা অন্যান্য অফিসারদের নজরে আসে। শহিদ কর্নেল আনিস ও মেজর হুমায়ুনসহ অনেকেই ইউনিফর্মটি দেখেন।
প্রসঙ্গত, বিডিআর বিদ্রোহ বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১১ মাস ধরে তদন্তের পর কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো দেশে পিলখানার হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বিতর্ক ও চাঞ্চল্য আরও বাড়িয়েছে।
Leave a Reply