পিলখানায় ২০০৯ সালের নৃশংস বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষাপটে শুরু থেকেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে প্রকাশিত চোখে পড়ার তথ্য অনুসারে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েকদিন আগে সোহেল তাজের জন্য বিডিআর ইউনিফর্ম তৈরি করা হয়েছিল।
কমিশনের ৮ নম্বর কয়েদি সাক্ষী হাবিলদার জসিম উদ্দিন খান ও দর্জি আছিফুর রহমান আকাশের জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে সোহেল তাজের জন্য ইউনিফর্ম তৈরি করার কাজ শুরু করা হয়।
দর্জি আকাশ জানিয়েছেন, ইউনিফর্ম তৈরির জন্য মাপ নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডিএডি তৌহিদ আকাশ, এবং পরে মাপ অনুযায়ী ইউনিফর্ম তৈরি করে সোহেল তাজের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইউনিফর্মে কোনো র্যাংক না থাকলেও ডিপ সাইন ছিল, যা হত্যাকাণ্ডে শহিদ হওয়া কর্নেল আনিস, মেজর হুমায়ুনসহ অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল।
আকাশ আরও জানান, সোহেল তাজ নিজে প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন বলে নিজের জন্য ইউনিফর্ম বানানোর এই অভূতপূর্ব ঘটনা অন্যান্য অফিসারদের নজরে আসে। এর ফলে অনেকেই ইউনিফর্মটি দেখেন এবং বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের আগে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, বিডিআর বিদ্রোহ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১১ মাস ধরে তদন্ত করা হয় এবং কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো সোহেল তাজের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
Leave a Reply