ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতীয় রুপি। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ডলারের বিপরীতে প্রথমবারের মতো এক রুপি ৯০-এর বেশি মূল্য পৌঁছেছে। বাজারে লেনদেনের এক পর্যায়ে রুপি ডলারের বিপরীতে নেমে ৯০.১৩ রুপিতে পৌঁছে, যা আগের দিনের সর্বনিম্ন রেকর্ড ৮৯.৯৪৭৫ রুপিকে ছাড়িয়ে যায়।
রুপির এই পতনের কারণে ভারতীয় শেয়ারবাজারে চাপ বেড়েছে। নিফটি সূচক ২৬ হাজারের নিচে নেমে গেছে, সেনসেক্সও দিনের শুরুতে প্রায় ২০০ পয়েন্ট কমে গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তারা শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত দুর্বল বাণিজ্য প্রবাহ, পোর্টফোলিও বিনিয়োগে ধীরগতি এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করছেন, রুপি কখন স্থিতিশীল হবে বা বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন হবে— এই বিষয়গুলোই এখন বাজারের প্রধান নজর।
“ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে রুপির পতন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে ভারতকে কী ধরনের শুল্ক আরোপ করা হবে, তার প্রভাব রুপির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,” বলেন বিশ্লেষকরা।
এদিন শেয়ারবাজারের শুরুতে খুব বেশি ওঠানামা দেখা যায়নি। সেনসেক্স ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫,১৫১-এ অবস্থান করছে, আর নিফটি সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ২৬,১৪-এ নেমেছে। তবে ধারাবাহিক রুপির পতনের আশঙ্কা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রভাব বাজারে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) এই বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করছে না, যা রুপির আরও অবমূল্যায়নের সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাজারের দৃষ্টিতে, রুপির পতন শুধু মুদ্রা অবমূল্যায়নের প্রভাব ফেলছে না, বরং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আচরণও প্রভাবিত করছে।
Leave a Reply