অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজামান বলেছেন, দায়িত্বপালনের সময় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক সততার এক সুদক্ষ কারিগর। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আপনি উত্তরাধিকার সূত্রে এমন একটি বিচারব্যবস্থা পেয়েছিলেন যেখানে প্রায়ই আইনের শাসনের পরিবর্তে সুবিধার শাসন জেঁকে বসেছিল। গত ১৬ মাসে আপনার নেতৃত্বে বিচার বিভাগে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।” তিনি প্রধান বিচারপতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা, মনোবল বৃদ্ধি ও জবাবদিহি, ডিজিটালাইজেশন এবং কমার্সিয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, “২৩২টি নতুন বিচারিক পদ সৃষ্টি ও ৮২৬ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি, বিচারকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি নগদায়ন সুবিধা প্রদান, সবকিছুই কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে কাগজমুক্ত বিচার কার্যক্রম ও হেল্পলাইন চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।”
অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, প্রধান বিচারপতির সময়কালে দেশের বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদা অর্জন করেছে। পরিবেশগত ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ফেলোশিপে তার অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত। তিনি বলেন, “আপনি প্রমাণ করেছেন যে উত্তরাধিকার কেবল নামের ভার নয়, কর্মের মাধ্যমে তাকে আরও উজ্জ্বল করার নাম।”
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। বিদায়ী সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল শৃঙ্খলা, সততা ও সাহসিকতার জন্য প্রধান বিচারপতিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া জানান।
Leave a Reply