সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পঞ্চম দিনেও তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত তার সমাধিস্থলে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ দলে দলে এসে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করছেন। কেউ ফুল হাতে, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ চোখের জলে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। কবরের পাশে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন আগতরা।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকেই বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন বা সাবেক প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল স্মরণীয়। দাফনের পাঁচ দিন পরও মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তার রাজনৈতিক প্রভাব ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততারই প্রমাণ।
এদিকে, শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো এলাকা সিসিটিভি ও নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় রাখা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
পরদিন বিকেল ৩টার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে, স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দাফনের পরদিনগুলোতেও কবর জিয়ারতে মানুষের অব্যাহত উপস্থিতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
Leave a Reply