ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) স্থানান্তর করেছে। মার্কিন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে মাদুরোকে এই কারাগারেই রাখা হয়েছে। কুখ্যাত এই কারাগার নোংরা পরিবেশ, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।
১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এমডিসি নিউইয়র্কে এর আগেও বহু আলোচিত বন্দিকে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সংগীতশিল্পী আর. কেলি, ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্যোক্তা মার্টিন শ্রেকলি, সমাজকর্মী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল, ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোক্তা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং সংগীত তারকা শন ডিডি কম্বস। এমনকি সন্দেহভাজন সিনালোয়া কার্টেল নেতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকেও বিচারাধীন অবস্থায় এখানে রাখা হয়েছিল।
এই কারাগারের পরিবেশ নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে সহিংস ঘটনায় এক বন্দি ছুরিকাঘাতে নিহত হন এবং এর এক মাস পর আরেক বন্দি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ হারান। এছাড়া ২০১৯ সালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে বন্দিদের অন্ধকার ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে অমানবিক অবস্থায় থাকতে হয়েছিল। ওই ঘটনার পর বিচার বিভাগ তদন্ত শুরু করলে কারা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ১,৬০০ বন্দিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়।
এদিকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার পরিচালনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়াশিংটনের।
ভেনেজুয়েলার মতো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
Leave a Reply