সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্ট অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৭২৯টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংগঠনটির নেতারা। তারা জানান, রেলপথে গত বছর ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত এবং ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে নিহতের সংখ্যা ১৫৮ জন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন বিপুল ক্ষয়ক্ষতি রোধে ভাড়া নির্ধারণ, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ তহবিলসহ প্রতিটি সিদ্ধান্তে পরিবহন শ্রমিকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
সংগঠনটির নেতারা আরও সতর্ক করেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে গণপরিবহন নিরাপত্তা ইস্যুটি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানানো হলো। তারা বলছেন, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা কমাতে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যাবশ্যক।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দুর্ঘটনার এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকিতে পড়বেন। সংগঠনটি আরও বলেছে, শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, যাত্রীরা যদি নিজ দায়িত্বে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন এবং নিরাপদে যাত্রা করেন, তবে অনেক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।
২০২৫ সালের এই চরম দুর্ঘটনা পরিসংখ্যান দেশকে সতর্ক করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর নীতি প্রণয়ন না করলে প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকিতে থাকবেন।
Leave a Reply