বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের সাক্ষাৎ পেতে ‘স্যার’ ডেকে আকুতি জানিয়েছিলেন মোদি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫.২৮ অপরাহ্ণ
  • ১২৩ বার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ও আত্মপ্রশংসামূলক ভঙ্গিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপাবলিকান সদস্যদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প ভারত-আমেরিকার সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মোদির সঙ্গে কাটানো একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন, যা ঘিরে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এক সময় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক দরকষাকষি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এসে প্রায় আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি? আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ, অবশ্যই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক প্রয়োজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বক্তব্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ভারত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ৬৮টি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই সামরিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করতেই মোদি তার সঙ্গে বিশেষভাবে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী ছিলেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প, তবু বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রশ্নে বন্ধু মোদিকে কোনো ছাড় দেননি বলেও স্পষ্ট করে দেন।

এরপর ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত কঠোর শুল্ক প্রসঙ্গে কথা বলেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই উচ্চ শুল্কে মোদি মোটেও সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, “মোদি জানতেন আমি খুশি নই, আর আমাকে খুশি রাখাটা তাঁর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার কঠোর অবস্থানের পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করলে প্রয়োজনে এই শুল্কের বোঝা আরও বাড়ানো হতে পারে।

ট্রাম্পের এমন খোলামেলা ও অনেকের দৃষ্টিতে অপমানজনক মন্তব্যের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Footer Widget

Footer Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2019, All rights reserved.
Design by Raytahost.com