আগের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থী আইনের আওতায় সমান সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান চতুর্থ দিনের আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিইসি জানান, যারা আপিল আবেদন করছেন, তাদের প্রত্যেকের বিষয়ই আইনি ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাস করে। কেউ বঞ্চিত হবেন না, সবাই ন্যায়বিচার পাবেন।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। কোনো পক্ষ যেন অন্যায় সুবিধা না পায়, সে বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
আপিল শুনানি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা গোপনীয়তার সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মনোনয়ন বাতিল বা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করতে ইসি ভবনে ভিড় করছেন প্রার্থীরা ও তাদের প্রতিনিধিরা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আপিল কার্যক্রম চলবে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এসব আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে গত তিন দিনে মোট ২৯৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং সোমবার প্রথম দিনে ৪১টি আপিল দায়ের করা হয়। কমিশন পর্যায়ক্রমে এসব আবেদন নিষ্পত্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদের ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
সিইসির এই বক্তব্যকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, আসন্ন নির্বাচন হবে গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য।
Leave a Reply