চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকানে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে ওই ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে পুনরায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে সেনাবাহিনী জানায়, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তদন্তে যদি কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এদিকে, শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
Leave a Reply