আসন্ন গণভোটে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থনকে নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে যে, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একটি স্পষ্টকরণ প্রকাশ করেছে।
প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা বিবেচনা করলে এই সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। বরং সংকটময় সময়ে নীরব থাকা কোনো নেতার দায়িত্বশীলতা নির্দেশ করে না। অন্তর্বর্তী সরকার শুধু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক সংকট, জনঅনাস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রণয়নের জন্য গঠিত।
প্রেস উইং জানায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে পরামর্শ করে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। তাই এ বিষয়ে নীরব থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে বোঝার সমতুল্য।
আন্তর্জাতিক উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট, স্কটল্যান্ডের ২০১৪ সালের স্বাধীনতা গণভোট, তুরস্কের ২০১৭ সালের সাংবিধানিক গণভোটসহ বিভিন্ন দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রকাশ্য সমর্থনকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে দেখা হয়নি।
প্রেস উইং আরও জানায়, গণভোটের বৈধতা নেতাদের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগের ওপর। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ নেই। সরকারি প্রচারণা মূলত সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, যা বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়তা করে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের জবাবদিহিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শেষ সিদ্ধান্ত সর্বশেষে জনগণের হাতে থাকবে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবে।
Leave a Reply