ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় পরিস্থিতি, অনিশ্চয়তা এবং কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট জটিলতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বৈঠকের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে বাংলাদেশের সামনে কার্যত দুটি পথই খোলা ছিল— হয় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, নয়তো পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ভারতে না যাওয়ার অবস্থানেই অনড় থাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও খেলোয়াড়রা। এর ফলে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে ন্যায্যতা ও সুবিচার পাইনি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখতে চায়। তবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা সম্ভব নয়। আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও সন্তোষজনক সমাধান না আসায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, খেলোয়াড়দের বড় একটি অংশও ভারতে গিয়ে খেলার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা ও মানসিক চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। ক্রিকেটারদের মতামত ও সরকারের অবস্থান মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি পূর্ণ সদস্য দেশের বিশ্বকাপ বর্জন আইসিসির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যও প্রভাবিত হতে পারে।
তবে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশ ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে। আপাতত দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সম্মানকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply